রাজনৈতিক মামলায় সাড়ে তিন বছর কারাগারে এক শিশু




রাজনৈতিক মামলায় সাড়ে তিন বছর কারাগারে এক শিশু


রাজনৈতিক মামলায় প্রায় সাড়ে তিন বছর আটক থাকা এক শিশু জামিন পেয়েছে। গত মঙ্গলবার ঢাকার শিশু আদালত জামিনের এই আদেশ দেন। তবে আদালত থেকে তার অবমুক্ত করার আদেশ এখনো কারাগারে পৌঁছায়নি। শিশুটি ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে আছে।
শিশুটির আইনজীবী সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছেন, ২০১৩ সালে ককটেল ফোটানোর মামলায় শিশুটিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে আটক আছে সে। তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে জামিন দেন।
শিশুটিকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তার বয়স দেখানো হয় ১৫ বছর। তখন থেকে সে টঙ্গীর কিশোর উন্নয়নকেন্দ্রে থাকত। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর থেকে তাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।
২০১৩ সালের ২৭ অক্টোবর শিশুটিকে রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে রমনা থানা-পুলিশ। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, ১৮ দলের ডাকে হরতাল ছিল সেদিন। শিশুটি কাকরাইলের মসজিদ দক্ষিণ অংশের ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় পুলিশ তাকে ধাওয়া করলে তার কাছে থাকা ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে শিশুটি মারাত্মক জখম হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তাকে ১ নম্বর আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করে। পরের বছর শিশুটিসহ দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় রমনা থানা-পুলিশ। মামলার তিন বছর পাঁচ মাস পর গত মঙ্গলবার শিশুটির বিচার শুরু হয়েছে।
আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে, এ মামলায় এক বড় আসামির সঙ্গে তার বিচার চলছিল ঢাকার অন্য আরেকটি আদালতে। তার আইনজীবী বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিতে আনার পর সম্প্রতি বিচারের জন্য মামলাটি ঢাকার শিশু আদালতে ফেরত পাঠানো হয়। অপরাজেয় বাংলাদেশের সমাজকর্মী জেসমিন আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, শিশু হলেও তার বিচার বড়দের সঙ্গে করা হচ্ছিল। শিশু আইন অনুযায়ী শিশুদের বিচার আলাদাভাবে করতে হবে। বিষয়টি তাদের সংগঠনের প্যানেল আইনজীবীরা আদালতের নজরে আনেন। পরে মামলাটি ঢাকার শিশু আদালতে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ছেলেটি হিন্দু। কিন্তু তাকে মুসলিম দেখানো হয়েছে।
গত মঙ্গলবার শিশুটিকে ঢাকার শিশু আদালতে হাজির করা হয়। শিশুটির সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, শিশুটির বাবা মারা গেছেন অনেক আগে। মা বেঁচে থাকলেও কখনো ছেলের সঙ্গে দেখা করেননি। তার এক ভাই আছেন। তিনি গোপালগঞ্জে থাকেন। তিনিও তার খোঁজখবর নেন না। শিশুটির ভাষ্য, বিএনপির ডাকা হরতালের সময় কাকরাইল এলাকার এক লোক তার কাছে ককটেল দিয়েছিল আরেক লোকের কাছে পৌঁছে দিতে। যাওয়ার পথে পুলিশ ধাওয়া করলে ককটেল বিস্ফোরিত হলে সে আহত হয়। পুলিশ বা বাসে সে ককটেল ছুড়ে মারেনি।
শিশুটিকে আইনগত সহায়তা দিচ্ছে মানবাধিকার সংগঠন অপরাজেয় বাংলাদেশ। সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা বলেছেন, শিশুটি হিন্দুসম্প্রদায়ের হলেও মামলার এজাহার, অভিযোগপত্রে তাকে মুসলমান হিসেবে দেখানো হয়েছে। রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।
শিশু আদালতের সরকারি কৌঁসুলি শাহাবুদ্দিন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটি অনেক দিন ধরে কারাগারে। এত দিন ধরে তার কোনো আইনজীবী ছিল না। সম্প্রতি অপরাজেয় বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের আইনজীবীরা তার জামিন চাইলে আদালত জামিন দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত বিচার শুরু করেছেন।

Comments

Popular posts from this blog

হস্তমৈথুনের ফলে কতো ক্যালোরী খরচ হয় ?