সেই ৬ হাজার গাছ কাটার ঘটনায় প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

সেই ৬ হাজার গাছ কাটার ঘটনায় প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার


চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার শোল্লা গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমির প্রায় ছয় হাজার মেহগনিগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ছবি: প্রথম আলো।চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার শোল্লা গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমির প্রায় ছয় হাজার মেহগনিগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ছবি: প্রথম আলো। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার শোল্লা গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমির প্রায় ছয় হাজার মেহগনিগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সাত দিন পর গতকাল শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান শিক্ষক হলেন মো. আরিফুর রহমান। তিনি শোল্লা উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখার প্রধান শিক্ষক।
এর আগে এই বিপুল পরিমাণ গাছ কাটার ঘটনা নিয়ে গত ২৬ মার্চ এক প্রতিবেদন ছাপা হয় প্রথম আলোতে।
প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম। তিনি জানান, গত ২৩ মার্চ শোল্লা উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন পাউবোর ৮১ শতাংশ জমির প্রায় ছয় হাজার মেহগনিগাছ কাটার ঘটনায় পরদিন ২৪ মার্চ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করে পাউবো। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে নিশ্চিত হন স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে এসব গাছ কাটা হয়। এ জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করে আজ শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা যায়, শোল্লা গ্রামের মৃত এমদাদুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে মো. নাছিরুল ইসলাম চৌধুরী পাউবো থেকে ৮১ শতাংশ জমি ২০১২ সালের ১২ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বনায়নের শর্তে লিজ নেন। পরে সেখানে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে ছয় হাজার মেহগনির চারা রোপণ করেন। ইতিমধ্যে গাছগুলো ১৫ থেকে ২০ হাত লম্বা ও ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি মোটা হয়ে ওঠে। লিজের শর্তানুযায়ী, স্থানীয় ভূমিহীন ও বনায়নে আগ্রহী ব্যক্তিদের নিয়ে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। কিন্তু ওই কমিটির সঙ্গে লিজগ্রহীতা ও বনায়ন কমিটির সভাপতি মো. নাছিরুল ইসলাম চৌধুরীর দ্বন্দ্ব দেখা দেওয়ায় তাঁকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে গত ২৩ মার্চ বিকেলে শতাধিক ব্যক্তি একত্র হয়ে দা দিয়ে কুপিয়ে এসব গাছ কেটে ফেলে। পুলিশ বলছে, স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুর রহমানের নির্দেশে এ গাছগুলো কেটে ফেলা হয়।
তবে গ্রেপ্তারের আগে গত ২৫ মার্চ প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, বনায়ন কমিটিতে নাছিরুল ইসলাম চৌধুরী না থাকলেও তাঁর নামেই লিজ। তাঁর নির্দেশেই গাছগুলো কেটে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য জমি পরিষ্কার করা হয়েছে।
তবে এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন লিজগ্রহীতা নাছিরুল ইসলাম চৌধুরী। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমি পাউবোর জমি লিজ নিয়েছি। তবে কোনো গাছ লাগাইনি। শুনেছি, স্কুলের শিক্ষার্থীরা বনজঙ্গল সাফ করেছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক যদি বলে থাকেন, আমার অনুমতি নিয়ে ছয় হাজার মেহগনিগাছ কেটেছেন, তবে তা সঠিক না।’
আরও সংবাদ

Comments

Popular posts from this blog

হস্তমৈথুনের ফলে কতো ক্যালোরী খরচ হয় ?

the mountain festival